আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা : বিনোদ কুমার

| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রশাসনিক সংকটে পড়েছে। সরকার পতনের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিনোদ কুমারের বিরুদ্ধে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- পরীক্ষার খাতা যাচাইয়ে অনিয়ম, স্কুল মনিটরিংয়ে হস্তক্ষেপ, তালা ভেঙে কক্ষ দখল, বহিরাগতদের প্রবেশসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ।

সরেজমিনে শিক্ষক বিনোদ কুমার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। একই মত প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন প্রফেসর ও শিক্ষক। তারা জানান, ৫ আগস্টের ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের চাপে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা লায়লা বেগম নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দায়িত্ব ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষককে নিয়ে একাধিকবার বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তারা জানান।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষকরা দু’পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে অপমান ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তাদের। অভিভাবকরা মনে করেন, এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যদিও তারা ক্যামেরার সামনে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চাননি, তবে অফ ক্যামেরায় এসব বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।

কোচিং বাণিজ্য প্রসঙ্গেও অভিভাবকরা জানান, বিনোদ কুমারের কোচিংয়ে পড়ার জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিদ্যালয়ের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম ও বিরোধ চলে আসছে বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় লায়লা বেগম নানা বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করতেন। তাদের দাবিতে, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন এবং শিক্ষার প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে মনোযোগ দিতেন। তার আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।

বিদ্যালয়ের আয়া অভিযোগ করে বলেন, লায়লা বেগমের কাছে ছুটি নিতে হলে আগে উপহার দিতে হতো। এমনকি একজন শিক্ষকের শিশুর মৃত্যুতে ছুটি গ্রহণের ক্ষেত্রেও তিনি অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

বহিরাগতদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ প্রসঙ্গে বিনোদ কুমার জানান, লায়লা বেগম নিজেই বহিরাগতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ৫ আগস্টের ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। পরে তিনি নিজ হাতে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার দাবি, বর্তমানে লায়লা বেগম বিদ্যালয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন, আর সেই উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি নিজের হাতে লেখা নথিও তিনি অস্বীকার করছেন বলে অভিযোগ করেন বিনোদ কুমার।

বিদ্যালয়কে মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিভাবক ও শিক্ষকরা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে যদি রাজনৈতিক বিভাজন ও ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি অনিবার্য। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সংকটের সমাধান কামনা করেন, যাতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে।

বিষয়:

শিক্ষক
এলাকার খবর

সম্পর্কিত