বিশেষ প্রতিবেদন : নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত আসনটি হচ্ছে ‘নারায়ণগঞ্জ-৪’। এই আসনটিতে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে মোট ১৭জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে ২জন স্বতন্ত্র ও অন্য ১৫জন বিভিন্ন দলের প্রার্থী রয়েছেন। তবে, সব ছাড়িয়ে এই আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ৪জন প্রার্থী। আলোচনায় থাকা ৪জনের মধ্যে রয়েছেন মনির হোসেন কাসেমী, বিএনপির সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী, বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং বিএনপির মনোনয়নে বিগত দিনে ২বার নির্বাচনে অংশ নেয়া মোহাম্মদ শাহ আলম।
জানা গেছে, এই ৪জনের মধ্যে বিএনপির জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মনির হোসেন কাসেমীকে, রিপাবলিকান পার্টির হয়ে নির্বাচন করছেন মোহাম্মদ আলী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহ আলম। আর তাই এই ৪জন হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই জমজমাট হবে বলে মতামত সাধারণ মানুষের।
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজ নেতাকর্মী ও ভোটারদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে ৪জনের মধ্যে ৩জন প্রার্থীই অভিযোগ করেছেন। ইতিমধ্যে তাদের এই অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও ভাবে প্রচার করা হয়েছে। অভিযোগ করা ওই তিন প্রার্থী হলেন, মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহ আলম। যদিও তারা এই হুমকি-ধামকির বিষয়ে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নাম বলেননি। তবে, তাদের এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কারা দিচ্ছে এই হুমকি? কেননা অভিযোগকারী তিনজনেরই প্রাভাবশালী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। এমতাবস্থায় কে বা কারা তাদের নেতাকর্মী ও ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা সর্ব মহলে।
এদিকে, প্রার্থীদের এই হুমকির অভিযোগের বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির। ২৭ জানুয়ারি এক সভায় তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। আপনারা মৌখিকভাবে যে অভিযোগগুলো করেছেন, সেগুলোর ভিত্তিতেই কাজ শুরু হয়েছে।” তবে তিনি প্রার্থীদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে আইনে সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে যেই হোক না কেন। আমাদের কাছে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান। সবার জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করেই আমরা কাজ করতে চাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগকারী সকলেই প্রভাবশালী। তাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার মত কেউ আছে বলে নারায়ণগঞ্জ এর কারো জানা নেই। এবার একে অপরের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে কিনা সেটা প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে কারা হুমকি দিচ্ছে তাদের পরিচয় প্রকাশ না করায় প্রশাসনের জন্য একটি ধোয়াশা থেকেই যাচ্ছে। তাই হুমকিদাতাদের পরিচয় জানা থাকলে, পরিচয় উল্লেখ করে প্রার্থীদের উচিত লিখিত আকারে প্রশাসনের নিকট আবেদন করা। তাতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।